শ্রমবাজারে পরিবর্তন

চীনে স্নাতক অর্জনের পর ভোকেশনাল স্কুলে যাওয়ার হার বাড়ছে

চীনে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকরা নতুন করে ভোকেশনাল স্কুলে ভর্তি হচ্ছেন।

চীনে চাকরির বাজারে প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকরা নতুন করে ভোকেশনাল স্কুলে ভর্তি হচ্ছেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান বেশি অর্জন করেন তারা, যা শ্রমবাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরই মধ্যে দেশটির কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চালু করেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ছয় বছর আগে বাদ্যযন্ত্রে পারফরম্যান্সের ওপর ডিগ্রি অর্জন করেন গাও সেংহান। এরপর গানের শিক্ষকতা, রেস্তোরাঁ ও পোশাকের দোকান পরিচালনার মতো চাকরি করেন। শেষ পর্যন্ত পোশাককে বেছে নিয়েছেন গাও সেংহান। এখন প্রতিযোগিতা বাজারে সুবিধা পেতে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি।

চীনের সেই ক্রমবর্ধমান তরুণ দলের অংশ গাও সেংহান, যারা কয়েক বছর শ্রমবাজারে যুক্ত থাকার পর ভোকেশনাল স্কুলে ভর্তি হচ্ছেন। এ প্রবণতায় দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা তরুণরাও রয়েছেন। সিনহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তং জিয়েজিয়ং। সম্প্রতি করপোরেট পুনর্গঠনের কারণে চাকরি হারান তিনি। সেখানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছিলেন। এখন লানজিয়াং টেকনিশিয়ান কলেজে রান্না বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তং জিয়েজিয়ং।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্নাতক থেকে কারিগরি বিষয়ে পড়াশোনায় যাওয়া প্রায়োগিক সিদ্ধান্ত। এতে শ্রমবাজারে তরুণদের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারে। রেনমিন ইউনিভার্সিটি অব চায়নার স্কুল অব লেবার অ্যান্ড হিউরিসোর্সের অধ্যাপক জেং শিয়াংশুয়ান বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়ছে। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বছরে এক কোটি অতিক্রম করবে। বাজারে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলে বা চাকরির চাহিদা কম থাকলে এ উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।’

চীনে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকরা প্রায়ই টানাপড়েনের শিকার হন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা যে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেন তা উদীয়মান খাতের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে এন্ট্রি-লেভেলের জন্য তারা অতিপ্রশিক্ষিত হলেও প্রযুক্তিগত কাজে যথেষ্ট দক্ষ নয়।

ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেসের স্কুল অব লেবার ইকোনমিকসের সহযোগী অধ্যাপক মাও ইউফেইয়ের মতে, এ পরিস্থিতি বলছে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘যদি শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা শেষে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তা ইঙ্গিত করে যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে চাকরি উপযোগী করা হয়নি। এতে মানবিক, বস্তুগত ও আর্থিক সম্পদের পুনরাবৃত্তি ও অপচয় হয়।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রবণতা চীনের শ্রমবাজারের একটি গভীর কাঠামোগত বৈপরীত্য প্রকাশ করে। সেখানে হোয়াইট কলার বা প্রশাসনিক কাজের জন্য চাকরি প্রার্থীর অতিপ্রাচুর্য রয়েছে। অন্যদিকে উদীয়মান শিল্পে দক্ষ প্রযুক্তিগত কর্মীর তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

চাকরির বাজারের জোগান ও চাহিদার এ বৈষম্য চীনের জাতীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে বেইজিং, গুয়াংডং, ঝেজিয়াং ও হেনান প্রদেশে বিশেষ প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু হয়েছে। গুয়াংডং ও ঝেজিয়াং প্রদেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের সরাসরি প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছে। এর আওতায় গত মাসের মাঝামাঝি গুয়াংডংয়ে একটি পাইলট প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, যেখানে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের জন্য এক বছরের টেকনিশিয়ান কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। ঝেজিয়াংও বেকার বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য পূর্ণকালীন প্রি-টেকনিশিয়ান কোর্সের সুবিধা করেছে, যাতে তারা চাকরি বাজারে ভোকেশনাল শিক্ষার্থীর মতো সুবিধা পেতে পারেন।

ডাটা থেকে দেখা যায়, ভোকেশনাল স্নাতকরা চীনে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাইকস রিসার্ট ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ভোকেশনাল স্কুল স্নাতকদের ছয় মাস পর চাকরি পাওয়ার হার ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি।

আরও